Skip to content
সংক্রমণ ও রোগ

হার্পিস সিমপ্লেক্স ভাইরাসের লক্ষণ ও ছড়ানোর উপায়

Share X LinkedIn

হার্পিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস কী?

হার্পিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস (HSV) একটি সাধারণ ভাইরাস, যা পৃথিবীর অনেক মানুষের শরীরে থাকে। দুই ধরনের HSV প্রচলিত। HSV-1 সাধারণত মুখ ও ঠোঁটের আশেপাশের সংক্রমণের সাথে যুক্ত, আর HSV-2 সাধারণত যৌনাঙ্গের সংক্রমণে বেশি দেখা যায়। তবে দুই ধরনই যে কোনো জায়গায় সংক্রমণ ঘটাতে পারে।

অনেকের শরীরে ভাইরাসটি থাকলেও কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। আবার কারও ক্ষেত্রে বছরে কয়েকবার ফোসকা বা ঘা দেখা দেয়।

প্রাথমিক লক্ষণ কী?

সংক্রমণের শুরুতে আক্রান্ত জায়গায় সাধারণত নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে:

  • জ্বালাপোড়া, চুলকানি বা ঝিনঝিন ভাব
  • ছোট ছোট লাল দাগ বা উঁচু জায়গা
  • কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পানিভরা ছোট ফোসকা
  • ফোসকা ফেটে ছোট ঘা তৈরি হওয়া এবং পরে শুকিয়ে যাওয়া

প্রথমবার সংক্রমণে জ্বর, মাথাব্যথা বা গলা ফুলে যাওয়ার মতো উপসর্গ থাকতে পারে।

কীভাবে ছড়ায়?

ভাইরাসটি মূলত সরাসরি ত্বক বা শ্লেষ্মা ঝিল্লির সংস্পর্শে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির ফোসকা, ঘা বা লালার সরাসরি সংস্পর্শে এর সম্ভাবনা বেশি। নিচের বিষয়গুলো ঝুঁকি বাড়াতে পারে:

  • ঘা বা ফোসকার উপর সরাসরি চুমু খাওয়া
  • একই তোয়ালে, গ্লাস, চামচ বা লিপ বাম ভাগাভাগি করা
  • আক্রান্ত স্থানে হাত দেওয়ার পর না ধুয়ে চোখ বা মুখে হাত দেওয়া

কিছু ক্ষেত্রে ফোসকা না থাকলেও ভাইরাস ছড়াতে পারে বলে মনে করা হয়, তাই সতর্কতা নেওয়া ভালো।

কখন ডাক্তার দেখাবেন?

  • চোখের আশেপাশে বা চোখে ফোসকা বা ব্যথা হলে
  • উচ্চ জ্বর, তীব্র ব্যথা বা ঘা দ্রুত ছড়ালে
  • বারবার সংক্রমণ হলে
  • গর্ভাবস্থা, শিশু, বয়স্ক বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকলে

প্রথমবার ফোসকা দেখা দিলে ডাক্তার পরীক্ষা করে রোগ নিশ্চিত করতে পারেন। এতে সঠিক চিকিৎসা শুরু করা সহজ হয়।

ভুল ধারণা ও বাস্তবতা

  • ভুল ধারণা: শুধু যৌন সংস্পর্শে হার্পিস হয়। বাস্তবতা: HSV-1 সাধারণত মুখের সংস্পর্শে ছড়ায়, যেকোনো বয়সেই এটি হতে পারে।
  • ভুল ধারণা: ফোসকা না থাকলে ভাইরাস ছড়ায় না। বাস্তবতা: সুপ্ত বা হালকা অবস্থাতেও ছড়ানোর ঝুঁকি থাকতে পারে।
  • ভুল ধারণা: ঘা হলে নিজেই ফুটো করে দিলে তাড়াতাড়ি সারে। বাস্তবতা: ফোসকা ফাটালে সংক্রমণ ও দাগের ঝুঁকি বাড়ে।

সংক্ষেপে

হার্পিস সিমপ্লেক্স ভাইরাসের লক্ষণ প্রাথমিকভাবে জ্বালাপোড়া, ফোসকা ও ঘা হিসেবে দেখা দেয়। সরাসরি স্পর্শ ও ব্যক্তিগত জিনিস ভাগাভাগিতে এটি ছড়ায়। লক্ষণ দেখলে সতর্ক থাকুন এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Join the conversation

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Comments are reviewed before they appear. Keep it civil and on topic.