Skip to content
Health

অ্যাসাইক্লোভির কী? কাজ, ব্যবহার ও বিস্তারিত তথ্য

অ্যাসাইক্লোভির কী? কাজ, ব্যবহার ও বিস্তারিত তথ্য

Share X LinkedIn
অ্যাসাইক্লোভির কী? কাজ, ব্যবহার ও বিস্তারিত তথ্য
অ্যাসাইক্লোভির কী? কাজ, ব্যবহার ও বিস্তারিত তথ্য

”

অ্যাসাইক্লোভির কী?

অ্যাসাইক্লোভির একটি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ। এটি মূলত হার্পিস গোত্রের ভাইরাসের কারণে হওয়া কিছু সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। ওষুধের জেনেরিক নাম অ্যাসাইক্লোভির, আর বাজারে এটি বিভিন্ন কোম্পানি বিভিন্ন ব্র্যান্ড নামে বিক্রি করে। মূল উপাদান একই থাকলেও প্যাকেটের নাম, আকার ও ধরন আলাদা হতে পারে।

অনেকে ভাবেন সব ভাইরাস সংক্রমণেই অ্যাসাইক্লোভির কাজ করে। আসলে তা নয়। এটি মূলত হার্পিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস (HSV) এবং ভেরিসেলা-জোস্টার ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে। সাধারণ সর্দি-কাশি, ফ্লু কিংবা ডেঙ্গুর মতো রোগে এর কোনো ভূমিকা নেই।

এটি শরীরে কীভাবে কাজ করে?

কোনো ভাইরাস আক্রান্ত কোষের ভেতরে ঢুকে নিজের DNA তৈরি করে এবং নতুন ভাইরাস বানিয়ে ছড়িয়ে পড়ে। অ্যাসাইক্লোভির এই প্রক্রিয়াটিকে বাধা দেয়। ওষুধটি আক্রান্ত কোষের ভেতরে গিয়ে ভাইরাসের নিজস্ব একটি এনজাইমের সাহায্যে সক্রিয় রূপ নেয়। এরপর সেই সক্রিয় রূপটি ভাইরাসের DNA তৈরির এনজাইমকে আটকে দেয়।

এর ফলে ভাইরাসের বংশবিস্তার কমে যায় এবং ফোসকা, ব্যথা ও জ্বালাপোড়ার মতো উপসর্গ ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে একটি কথা মনে রাখা জরুরি। অ্যাসাইক্লোভির শরীর থেকে হার্পিস ভাইরাস পুরোপুরি মুছে ফেলে না। ভাইরাস স্নায়ুতে সুপ্ত অবস্থায় থেকে যেতে পারে এবং পরে আবার সক্রিয় হতে পারে।

কেন সবার জন্য একই ওষুধ নয়?

অ্যাসাইক্লোভির কোন রোগে, কোন ধরনের মাত্রায় এবং কতদিন ব্যবহার হবে, তা রোগীর বয়স, সংক্রমণের জায়গা, রোগের তীব্রতা, কিডনির অবস্থা ও অন্যান্য ওষুধের উপর নির্ভর করে। একই নামের ওষুধ একজনের জন্য উপযোগী হলেও অন্যজনের জন্য সতর্কতা লাগতে পারে। এ কারণে নিজে থেকে কোনো মাত্রা ঠিক করা ঠিক নয়।

অ্যাসাইক্লোভির নিয়ে সাধারণ ভুল ধারণা

  • ভুল ধারণা ১: ফোসকা দেখা দিলেই ওষুধ খেতে হবে। বাস্তবে ডাক্তার রোগ নির্ণয় করে সিদ্ধান্ত নেন।
  • ভুল ধারণা ২: ওষুধ খেলে ভাইরাস চিরতরে চলে যাবে। বাস্তবে ওষুধটি ভাইরাসের বৃদ্ধি কমায়, নির্মূল করে না।
  • ভুল ধারণা ৩: উপসর্গ কমে গেলেই খাওয়া বন্ধ করা যায়। চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া মাঝপথে বন্ধ করলে চিকিৎসার কার্যকারিতা কমতে পারে।

কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?

প্রথমবার ফোসকা, ঘা বা ফুসকুড়ি দেখা দিলে, চোখের আশেপাশে উপসর্গ থাকলে, গর্ভাবস্থায় বা শিশু ও বয়স্ক রোগী হলে ডাক্তার দেখানো জরুরি। রোগ নিশ্চিত হওয়ার পর ওষুধ শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়াই নিরাপদ।

সংক্ষেপে

অ্যাসাইক্লোভির হার্পিস ও কিছু সম্পর্কিত ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করা একটি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ। এটি ভাইরাসের বৃদ্ধি কমিয়ে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, কিন্তু সব ভাইরাসের জন্য বা সব অবস্থায় প্রযোজ্য নয়। ব্যবহারের আগে রোগ নির্ণয় ও মাত্রার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।

“

Join the conversation

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Comments are reviewed before they appear. Keep it civil and on topic.